বাদাম

দেহমনে সুস্থতা দেয় বাদাম। এর পুষ্টিগুণের তুলনা নেই। কিন্তু সহজলভ্য। আর বেশি যে খেতে হয়, তা নয়

‘ঈশ্বর আমাদের বাদাম দিয়েছেন, কিন্তু তিনি সেটা ভেঙে দেন না’- বলেছেন জার্মান সাহিত্যিক ফ্রান্জ কাফ্কা। কাঠবাদামখেকোরা বলতে পারবেন, এই ভেঙে খাওয়ার সংগ্রামটা কত জরুরি। তিন দফা খোলস ছাড়ানোর পর বেরোয় কাঠবাদাম। আর যাদের চীনাবাদাম ছিলতেই ভীষণ আলসেমি, তাদের কাছে এটা তো বিভীষিকা! তবে বাদাম ছেলায় যতই আলসেমি থাক না কেন, খাওয়ার ব্যাপারে কিন্তু কারোরই আলসেমি নেই!

ত্বক সুরক্ষায়ও চীনাবাদাম অপ্রতিরোধ্য। এর বিটা ক্যারোটিন ত্বকের কোষগুলো মেরামত করে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ফুসকুড়ি, ব্রণ ইত্যাদি কমায় ও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো চাপ নিয়ন্ত্রণ ও মনোভাব বদলে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এর ফলে চেহারায় বয়সের ছাপ- রিঙ্কল, ফাইন লাইন, ফ্যাকাশে ভাব আসে না। পিনাট বাটার কেবল খেতেই ভালো নয়, বেশ ভালো ফেস ক্লিনজার। বাদামে থাকা আঁশ শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদানগুলো নির্মূল করে এবং ত্বক উজ্জ্বল করে তোলে। চীনাবাদামের ম্যাগনেসিয়াম আমাদের স্নায়ু, শরীর ও রক্তকণাকে সচল রাখে। ফলে স্বাস্থ্যকর ত্বক পাওয়া যায়। অক্সিডেশনের ফলে ত্বকের যে ক্ষতি হয়, বাদামের ভিটামিন ই সেটা পূরণ করে। একই সঙ্গে সূর্যের ইউভি রশ্মি থেকেও সুরক্ষা দেয়। চীনাবাদাম থেকে কোলাজেন তৈরির জন্য ভালো পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। কোলাজেন তরুণাস্থি, টেন্ডন এবং ত্বকের কাঠিন্য ও নমনীয়তা নিয়ন্ত্রণ করে তারুণ্য ধরে রাখে।
চুলের যত্নেও বাদামের ভূমিকা রয়েছে। ভিটামিন ই, ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাবে চুল পড়ে যেতে পারে, যা বাদামে থাকা ভিটামিন ই রোধ করে। বাদাম খেলে বা বাদামের তেল মাথায় দিলে চুল পড়া অনেকাংশে কমে। ফ্যাটি অ্যাসিড চুল নতুন করে গজাতে সাহায্য করে। বাদাম থেকে পাওয়া অ্যামিনো অ্যাসিড চুলের গোড়া পর্যন্ত রক্ত চলাচল নিশ্চিত করে ছেলেদের চুল পড়া থেকে রক্ষা করে।
বাদামের যেমন সুফল রয়েছে, তেমন রয়েছে কুফলও। তবে সেটা কেবল অতিরিক্ত খেলেই! প্রথমত বাদামে প্রচুর ক্যালরি রয়েছে, যা স্বাস্থ্যসচেতন মানুষদের জন্য মোটেও ভালো নয়। বাদামের আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট তো রয়েছেই, প্যাকেটজাত বাদামে অন্যান্য প্রিজারভেটিভ ও কেমিক্যাল মিলে সোডিয়াম ও সুগারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। বাদামে থাকা অক্সালেট কিডনির পাথরের কারণ হতে পারে। আর যে বাদাম আপনাকে ত্বকের সুরক্ষা দিচ্ছে, অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার ফলে সেটা হিতে বিপরীত হতে পারে। তাহলে একজন মানুষের কতটুকু পরিমাণ বাদাম প্রয়োজন- খুব কম, প্রতিদিন মাত্র ২৮ গ্রাম!

ছবি: সংগ্রহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *